দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৯৯৯ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমেছে, এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৩টির, কমেছে ২৬৮টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৩৮০ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ব্যাংক খাত ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে আটটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ১১, পাট খাতে ৩ দশমিক শূন্য ৪ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে যথাক্রমে সবচেয়ে বেশি দশমিক ৭৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে দশমিক ৭৪ ও চামড়া প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ৪৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৯২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ৯৯৪ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৬২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৬৫৩ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৫টির, কমেছে ১৬৯টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির।